Service
জাতীয় পরিবেশ পদকজয়ী মনির হোসেনকে ঘিরে পরিবেশকর্মীদের ভালোবাসার মিলনমেলাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মিলনায়তনে রোববার (১৯ জুলাই) সকালটা ছিল অন্যরকম। একই ছাদের নিচে জড়ো হয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পরিবেশবিদ, নদী গবেষক, সংগঠক ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা। সবার লক্ষ্য ছিল একটাই-পরিবেশবিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’ অর্জনকারী বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট নদী গবেষক নদীবন্ধু মো. মনির হোসেনকে অভিনন্দন ও সম্মান জানানো।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ), মিশন গ্রীনসহ ৪৫টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত পরিবেশবাদী সংগঠন’ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শুরু থেকেই পুরো মিলনায়তনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, তবে সেই উৎসবের কেন্দ্রে ছিল পরিবেশ ও নদী রক্ষার অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান মজুমদার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা নদী গবেষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানান ইআরপিডিএফ-এর চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন।
বক্তারা একের পর এক বক্তব্যে তুলে ধরেন দেশের নদী ও পরিবেশের বর্তমান বাস্তবতা। প্রধান অতিথি মো. আব্দুস সালাম বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। তাঁর ভাষায়, মো. মনির হোসেনের জাতীয় স্বীকৃতি পরিবেশ আন্দোলনে যুক্ত মানুষদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নদী ও জলাশয় রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, পরিবেশ ও নদী এখন কঠিন সময় পার করছে। তাই মাঠপর্যায়ে নিরলস কাজ করা একজন কর্মীর জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো পরিবেশ আন্দোলনের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
SouthAsians & Diaspora
বিশেষ অতিথি ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গবেষণা এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। তাঁর মতে, মো. মনির হোসেনের এই অর্জন দেশের পরিবেশ আন্দোলনকে নতুন শক্তি জোগাবে।
অন্যদিকে প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, পরিবেশ শিক্ষা ও সচেতনতা ছাড়া প্রকৃতি রক্ষা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা, প্রচার ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের যথার্থ স্বীকৃতিই হলো জাতীয় পরিবেশ পদক।
সবশেষে সংবর্ধিত অতিথি মো. মনির হোসেন বক্তব্য দিতে উঠে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়, দেশের প্রতিটি নদী ও পরিবেশকর্মীর। জাতীয় পরিবেশ পদক আমাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করেছে। আজ ৪৫টি সংগঠনের ভালোবাসা আমাকে নদী ও মানুষের অধিকার রক্ষার পথে নতুন শক্তি জোগালো।”
পরে সম্মিলিত পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুষ্পস্তবক তুলে দেওয়া হয়। করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবেশবিদ, গবেষক, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন-দেশের নদী, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলাই হবে তাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার।